Teachers Day Paragraph In Bengali | শিক্ষক দিবস রচনা প্যারাগ্রাফ

Teachers Day Essay In Bengali: একজন শিক্ষার্থীর জীবনে শিক্ষকের ভূমিকা অপরিসীম। শিক্ষকরা জাতির ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তাদের জ্ঞানের আলোতেই একজন আদর্শ নাগরিকের জন্ম হয়। আমরা জীবনের যে পর্যায়েই থাকি না কেন, একজন প্রকৃত শিক্ষকের প্রয়োজন আমাদের সবসময় থাকে। আমাদের সাফল্যের পেছনে তাদের বড় অবদান রয়েছে। জীবন ও সমাজে শিক্ষকদের এই অমূল্য অবদানকে সম্মান জানাতে প্রতি বছর ৫ই সেপ্টেম্বর ড. সর্বপ্ললী রাধাকৃষ্ণনের জন্মদিনে ভারতে শিক্ষক দিবস পালিত হয়। এই শিক্ষক দিবস উপলক্ষে, আমরা আপনাদের জন্য শিক্ষক দিবস রচনা (Teachers Day Paragraph In Bengali) নিয়ে এসেছি। আশা করি আপনাদের এটি ভালো লাগবে।

Teachers Day Paragraph In Bengali
Teachers Day Paragraph In Bengali

শিক্ষক দিবস রচনা (Teachers Day Paragraph In Bengali)

শিক্ষক দিবস ভূমিকা

ভারতে শিক্ষক দিবস বা টিচার্স ডে প্রতি বছর ৫ই সেপ্টেম্বর অত্যন্ত উৎসাহের সাথে পালিত হয়। এই দিনটি সমাজে শিক্ষকদের গুরুত্বের কথা মনে করিয়ে দেয়। জ্ঞান, তথ্য এবং সমৃদ্ধির প্রকৃত ধারক শিক্ষকরাই আমাদের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। তাদের অবদান ছাড়া এক আদর্শ সমাজের কল্পনা করা অসম্ভব। তাই শিক্ষক দিবসের দিন দেশের সমস্ত স্কুল ও কলেজে শিক্ষাথীরা বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে শিক্ষকদের প্রতি সন্মান ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক শিক্ষিকারাও এইসব কর্মসূচিতে পূর্ণ উৎসাহ নিয়ে অংশগ্রহণ করেন।

৫ই সেপ্টেম্বর কেন শিক্ষক দিবস পালিত হয়?

৫ই সেপ্টেম্বর ড. সর্বপ্ললী রাধাকৃষ্ণনের জন্মবার্ষিকী। তিনি স্বাধীন ভারতের প্রথম উপরাষ্ট্রপতি এবং দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি ছিলেন। ড. সর্বপ্ললী রাধাকৃষ্ণন ১৯৫২ সাল থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত উপরাষ্ট্রপতি হিসেবে এবং ১৯৬২-১৯৬৭ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেশের সেবা করেছিলেন। ড. সর্বপ্ললী রাধাকৃষ্ণন শিক্ষকদের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার আগে তিনি নিজে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করতেন। একজন আদর্শ শিক্ষক হিসাবে তিনি তাঁর দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করতেন এবং সবসময় তার ছাত্রদের সঠিক শিক্ষা দিতে চেষ্টা করতেন। তাই ছাত্রদের কাছে তিনি খুবই প্রিয় শিক্ষক ছিলেন। তিনি মনে করতেন, একমাত্র শিক্ষকরাই দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করে আদর্শ নাগরিক বানাতে পারে।

ড. সর্বপ্ললী রাধাকৃষ্ণন দেশের রাষ্ট্রপতি হবার পর, তার প্রাক্তন ছাত্ররা প্রতি বছর ৫ই সেপ্টেম্বর রাধাকৃষ্ণন জয়ন্তী উদযাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু, তিনি তার জন্মবার্ষিকী পালনের পরিবর্তে ৫ই সেপ্টেম্বর ‘শিক্ষক দিবস’ হিসাবে উদযাপন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তার এই ইচ্ছাকে সম্মান জানাতে ১৯৬২ সালের ৫ সেপ্টেম্বর আমাদের দেশে প্রথমবার শিক্ষক দিবস পালিত হয়। এবং তারপর থেকে প্রতি বছর এই দিনটি শিক্ষক দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

শিক্ষক দিবসের তাৎপর্য বা গুরুত্ব

শিক্ষক দিবস একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন, এই দিনটি আমাদের জীবন ও সমাজে শিক্ষকদের অমূল্য অবদানকে সম্মান জানানোর দিন। শিক্ষকতা পেশা পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন পেশাগুলির মধ্যে একটি কারণ তাদের ওপরে দেশের নতুন প্রজন্মকে শিক্ষিত করার দায়িত্ব রয়েছে।

একজন আদর্শ শিক্ষক সবসময় তার ছাত্রদের স্বার্থ বিবেচনা করে তাদের কাজের দক্ষতা উন্নত করতে উৎসাহিত করে। ছাত্রের ব্যক্তিত্ব, আত্মবিশ্বাস এবং দক্ষতার স্তরকে উন্নত করতে শিক্ষকের যথেষ্ট ভূমিকা থাকে। তারা ভবিষ্যত প্রজন্মকে যেকোনো অসুবিধা এবং সমস্যার মুখোমুখি হতে পারার জন্য সক্ষম করে তোলে। এজন্য এই দিনটি শুধুমাত্র শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য নিবেদিত।

স্কুলে শিক্ষক দিবস উদযাপন

আমাদের দেশে প্রতি বছর ৫ই সেপ্টেম্বর অত্যন্ত উৎসাহের সাথে শিক্ষক দিবস পালিত হয়। ছাত্র ছাত্রীরা শিক্ষক দিবস পালন করার জন্য খুব উচ্ছ্বসিত থাকে। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে শিক্ষক দিবস উদযাপনের প্রস্তুতি অনেক দিন আগে থেকেই শুরু হয়ে যায়।

শিক্ষক দিবস উপলক্ষে স্কুল, কলেজ এবং অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই দিন শিক্ষকদের বিভিন্ন পুরস্কার দিয়ে সম্মানিত করা হয়। শিক্ষার্থীরা বক্তব্য ও কবিতার মাধ্যমে শিক্ষকদের প্রতি তাদের অনুভূতি এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। অনেক ছাত্র ছাত্রী শিক্ষকদের হাতে নিজেদের তৈরি উপহার বা শুভেচ্ছা কার্ড দিয়ে দিনটিকে আরও স্পেশাল করে তোলে।

শিক্ষক দিবস উপসংহার

ভারতে শিক্ষক দিবস শিক্ষকদের সম্মানে উদযাপিত হয়, কারণ তারা সারা বছর কঠোর পরিশ্রম করে শিক্ষাথীর জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে। সারা দেশের স্কুল কলেজে এই দিন বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই ধরনের অনুষ্ঠান ছাত্র এবং শিক্ষকদের মধ্যে সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে সাহায্য করে। তাই শিক্ষক দিবস ছাত্র এবং শিক্ষক উভয়ের জন্যই একটি বিশেষ দিন।

এগুলি পড়ুন –

Leave a Comment